মিরসরাইয়ে জায়গার বিরোধে ৩ বছর বয়সী শিশু নূর নূর আব্দুল্ল্যাহ হত্যার ঘটনায় পূর্বশত্রুতার জেরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীদের পরিবার। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১১টায় উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
শিশু হত্যার ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার দিন ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের নিয়ে যায় পরে শিশু নূর আব্দুল্ল্যাহ দাদী জোসনারা বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নামে মামলা করলে আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার রহিমা আক্তারের মেয়ে ও গ্রেপ্তার মাহফুজ আলমের বোন নাজমুন নাহার রুপা বলেন, ‘আমার অসুস্থ বৃদ্ধা মা রহিমা আক্তার, ভাই মাহফুজ আলম এবং মামাতো ভাই বাদশাকে বিনা অপরাধে শিশু নূর আবদুল্লাহ হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে। ঘটনার দিন তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। পরে মামলার এজাহারে তাদেরকে আসামী করায় বিজ্ঞ আদালতে চালান করে দেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সাথে রাসেলদের পূর্ব থেকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে। কিন্তু ঘটনার দিন আমাদের পরিবারের কোন সদস্যর সাথে রাসেলদের কোন প্রকার ঝগড়া হয়নি। শুধুমাত্র পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাসেলরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় জেল খাটাচ্ছে। আমি এই মামলার সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রকৃত আসামীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি এবং আমার পরিবারের নিরপরাধ সদস্যদের আইনি হয়রানি ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করছি।’
শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মাহফুজের স্ত্রী বিবি আয়েশা, ‘পাশের বাড়ির দ্বীন ইসলামের বউ আর রাসেলের মা ঝগড়া করতেছিল ঝগড়ার একপর্যায়ে আমরা শুনি ঝগড়ার সময় নাকি তাদের নাতি নূর আব্দুল্ল্যা মারা গেছেন। এরপর পুলিশ এসে আমার স্বামী, শাশুড়ি আর প্রতিবেশী বাদশাকে ধরে নিয়ে যায়। আমার স্বামীর যদি দোষ থাকতো তিনিতো পালিয়ে যেতেন আর ঘটনার সময়তো তিনি ছিলেনও না। আমরাও চাই অপরাধী শাস্তি পাক কিন্তু প্রতিহিংসার কারনে আমাদের কেন শুধু শুধু ফাঁসিয়ে দিল এটার বিচার চাই।’
শিশু হত্যায় গ্রেপ্তার হওয়া বাদশার স্ত্রী বিবি আয়েশা বলেন, ‘আমার স্বামী বাদশা পেশায় একজন গাড়িচালক। ঘটনার দিন রাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি গাড়ি চালিয়ে বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। শিশু মৃত্যুকে ঘিরে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে তাঁর ঘুম ভাঙে। বিষয়টি শুনে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেসময় স্বজনরা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন বলে তিনি জানতে পারেন। এরপর তিনি আবার বাড়িতে ফিরে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে দুপুরে ভাত খেতে বসলে পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।’
বাদশার স্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কারো জায়গা-জমি নিয়ে কোনো বিরোধ নেই, কোনো মামলা-মোকাদ্দমাও চলমান নয়। প্রকৃত অপরাধীদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয় এবং নিরপরাধীদের যেন মুক্তি দেওয়া হয় এই দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এটাতো তদন্তের ব্যাপার। এজহারনামীয় আসামী তারা। সেজন্য তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তে যদি তারা নিরাপরাধ হয় তাহলে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে। ৮ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী এজহার দায়ের করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘যখন বাদী এজাহারে নাম উল্লেখ করে তখন তাকে আমরা কোর্টে প্রেরন করি। বাকিটা কোর্টের ব্যাপার। কোর্ট চাইলে সেদিনই জামিন দিতে পারে বা জেলহাজতে প্রেরণ করতে পারেন।’
প্রসঙ্গত, স্থানীয় দ্বীন ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে নিহত শিশু নূর আব্দুল্ল্যার পরিবারের সঙ্গে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জায়গা নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ দ্বীন ইসলাম শিশু আব্দুল্ল্যার মাথায় আঘাত করে হত্যা করার অভিযোগ তুলেন প্রতিপক্ষ তবে দ্বীন ইসলামের পরিবারের অভিযোগ শিশু নূর আব্দুল্ল্যার দাদা মানসিক অসুস্থ মোস্তফা ভূঁইয়া শিশু নূর আব্দুল্ল্যাকে হত্যা করেছেন। এই ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত নূর আব্দুল্ল্যার দাদী জোসনারা বেগম বাদী হয়ে দ্বীন ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতাররা হলো জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের স্ত্রী বিবি রহিমা (৫৫), ছেলে মো. মাহফুজ (৩৩), আলী হোসেনের ছেলে আমজাদ হোসেন প্রকাশ বাদশা মিয়া (২৮)।

